Cricket

কোহলির সঙ্গে খেলেছেন এমন পুলিশ অফিসার, ইমার্জেন্সিতে দেখানো গতি বাঁচাল প্রাণ, জানুন কে তিনি ?

দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এসিপি সঞ্জয় সিং জরুরি পরিস্থিতিতে গ্রিন করিডোর তৈরি করে লুঙ্গি এনগিডিকে ১১ মিনিটে হাসপাতালে পৌঁছে দেন। প্রাক্তন ক্রিকেটার সঞ্জয় সিং বিরাট কোহলির সঙ্গে খেলার স্মৃতিও শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন সবার নজরে।

আইপিএল 2026-এর এক ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালসের দ্রুতগতির বোলার লুঙ্গি এনগিডি ক্যাচ ধরতে গিয়ে ভয়াবহভাবে পড়ে যান। মাথা ও ঘাড়ে আঘাত লাগায় পুরো মাঠ স্তব্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ কিছু সময়ের জন্য থামিয়ে দিতে হয় এবং খেলোয়াড়কে তৎক্ষণাৎ স্ট্রেচারে করে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর ছিল যে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। এই সময় দিল্লি ট্রাফিক পুলিশের এসিপি সঞ্জয় সিং পরিস্থিতি সামাল দেন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে বড় পদক্ষেপ নেন।

গ্রিন করিডোর বাঁচাল মূল্যবান সময়
পিক আওয়ারের ভারী ট্রাফিকের মধ্যে এসিপি সঞ্জয় সিং একটি ইমপ্রোভাইজড গ্রিন করিডোর তৈরি করেন। অ্যাম্বুলেন্সকে কোথাও থামতে হয়নি এবং মাত্র 11 মিনিটে অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। এই দ্রুত পদক্ষেপ খেলোয়াড়ের চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হয়। এই পুরো অপারেশনের আলোচনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করে। এই ঘটনা দেখিয়েছে যে সময়মতো নেওয়া সিদ্ধান্ত কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে।

ক্রিকেটের সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক
এসিপি সঞ্জয় সিং শুধু একজন পুলিশ অফিসারই নন, তিনি একজন প্রাক্তন ক্রিকেটারও। দিল্লির ঘরোয়া ক্রিকেটে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি অনেক বড় খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। বিশেষ বিষয় হল তার নাম বিরাট কোহলি এবং গৌতম গম্ভীরের মতো তারকাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার ক্রিকেট জীবনের অনেক আকর্ষণীয় ঘটনা শেয়ার করেছেন, যা সবার নজর কেড়েছে।

যখন একই দলে ছিলেন কোহলি

সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন যে 2003-04 সময়ে দিল্লি পুলিশ লিগ খেলা হতো। তখন বিরাট কোহলির বয়স ছিল মাত্র 16 বছর এবং তার দল কোয়ালিফাই করতে পারেনি। নিয়ম অনুযায়ী বাদ পড়া দল থেকে দুইজন খেলোয়াড় অন্য দলে যোগ দিতে পারত। সেই কারণে বিরাট তাদের দলে খেলেন এবং তার সঙ্গে মাঠ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পান। এই অভিজ্ঞতা তার জন্য খুবই বিশেষ ছিল।

নিবেদনই বানিয়েছে সুপারস্টার
তিনি আরেকটি মজার ঘটনা বলেন যে ম্যাচের দিনে ভারী বৃষ্টির কারণে মাঠ জলে ভরে গিয়েছিল। সব খেলোয়াড় বিশ্রাম নিচ্ছিল, কিন্তু বিরাট কোহলি লাগাতার ইনডোর অনুশীলন করছিলেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিশ্রম করার তার জেদ আলাদা করে চোখে পড়ে। সঞ্জয় সিংয়ের মতে এই নিবেদনই আজ তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়দের মধ্যে স্থান দিয়েছে এবং এটিই তার আসল পরিচয়।

আজও অনুপ্রেরণা দেয় এই গল্প
এসিপি সঞ্জয় সিংয়ের এই গল্প শুধু একটি স্মৃতি নয়, বরং পরিশ্রম এবং সুযোগের গুরুত্বও দেখায়। একদিকে মাঠে আহত খেলোয়াড়কে বাঁচাতে তার দ্রুততা, অন্যদিকে বিরাট কোহলির নিষ্ঠার স্মৃতি, দুটো দিকই অনুপ্রেরণা দেয়। এই ঘটনা দেখায় যে খেলায় হোক বা জীবনে, সঠিক সময়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং নিরন্তর পরিশ্রমই আসল জয় এনে দেয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button