Cricket

ইরান ইজরায়েল যুদ্ধের প্রভাব ক্রিকেট পর্যন্ত পৌঁছেছে, ইংল্যান্ডে বলের অভাবে বেড়েছে উদ্বেগ !

ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনার প্রভাবে ইংল্যান্ডে ক্রিকেট বলের সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ায় কাউন্টি সিজন নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও বোর্ড জানিয়েছে টুর্নামেন্ট নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।

ইরান এবং ইজরায়েল আমেরিকার মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন শুধু যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব বিশ্বের অনেক অংশে পড়তে শুরু করেছে এবং এখন খেলাধুলার জগতও এর বাইরে নেই। পশ্চিম এশিয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে জাহাজ এবং বিমান পরিষেবা প্রভাবিত হচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন জায়গায় আটকে রয়েছে এবং পণ্যের পরিবহনেও বাধা আসছে। এই কারণেই এখন ইংল্যান্ডের ক্রিকেট সিজনেও ঝুঁকি দেখা দিয়েছে, যেখানে বলের অভাবের খবর সামনে এসেছে।

কাউন্টি সিজনের আগে নতুন সমস্যা
ইংল্যান্ডে শীঘ্রই ঘরোয়া কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হতে যাচ্ছে, কিন্তু তার আগে একটি বড় সমস্যা সামনে এসেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এই সিজনে ব্যবহৃত হওয়া বলের সরবরাহ প্রভাবিত হয়েছে। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে 18টি দল অংশ নেয় এবং এতে বিশেষ ধরনের বল ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছর হাজার হাজার বলের প্রয়োজন হয়, কিন্তু এবার সময়মতো পর্যাপ্ত বল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

সাপ্লাই চেনে এসেছে বড় বাধা
বলের অভাবের পিছনে প্রধান কারণ হল সাপ্লাই চেনে আসা বাধা। এই বলগুলোর উৎপাদনে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যেখানে এগুলোর সেলাই এবং প্রস্তুতির কাজ হয়। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এয়ারলাইন্সগুলোর পণ্য আনা নেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে। এর ফলে বলের ডেলিভারি সময়মতো হচ্ছে না। এই কারণেই ইংল্যান্ডে বলের প্রাপ্যতার উপর প্রভাব পড়েছে এবং ক্রিকেট বোর্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

খরচও বেড়েছে, সরবরাহ অর্ধেক হয়ে গেছে
বলের আমদানিতে খরচও অনেক বেড়ে গেছে। আগে যেখানে এগুলো আনার খরচ কম ছিল, এখন সেই খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী এখন শুধু অর্ধেক বলই সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আয়োজকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ এত বড় টুর্নামেন্টের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদ থাকা জরুরি। যদি পরিস্থিতি দ্রুত না বদলায়, তাহলে এর প্রভাব ম্যাচ আয়োজনের উপরও পড়তে পারে।

বোর্ড উদ্বেগকে বলেছে ভিত্তিহীন
তবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড এই সমস্যাকে গুরুতর বলে মানতে অস্বীকার করেছে। বোর্ডের মতে তারা আগেই পর্যাপ্ত বল কিনে রেখেছে এবং সব দলকে সময়মতো সরবরাহ করা হয়েছে। তাদের মতে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সিজন নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে। এর পাশাপাশি ঘরোয়া টেস্ট সিজনও সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে জানানো হয়েছে।

আগামী পরিস্থিতির দিকে সবার নজর
এখন সবার নজর এই বিষয়েই যে আগামী দিনে পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়। যদি সরবরাহে উন্নতি হয়, তাহলে সমস্যা দ্রুত শেষ হতে পারে, কিন্তু যদি উত্তেজনা চলতে থাকে তাহলে প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। আপাতত ক্রিকেট মহল এই পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং আশা করা হচ্ছে যে টুর্নামেন্ট কোনো বাধা ছাড়াই সম্পন্ন করা যাবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button