Cricket

আবরার আহমেদকে কেনা নিয়ে উঠল বিতর্ক মনে পড়ল সেই সময় যখন আইপিএলে খেলেছিলেন অনেক পাকিস্তানি খেলোয়াড়

দ্য হান্ড্রেড লিগে আবরার আহমেদকে দলে নেওয়ার পর পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের নিয়ে পুরোনো বিতর্ক আবার সামনে এসেছে। এতে আইপিএলের প্রথম মরসুমে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ এবং পরে নিষেধাজ্ঞার ইতিহাসও নতুন করে আলোচনায় উঠেছে।

ইংল্যান্ডের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ দ হান্ড্রেডের নিলামের পর আবার পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সানরাইজার্স লিডস পাকিস্তানের স্পিনার আবরার আহমেদকে প্রায় 1.90 লাখ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় 2.3 কোটি টাকায় নিজেদের দলে নিয়েছে। এই দলটি সেই গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত যাদের আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিক বলা হয়। এই সিদ্ধান্তের পর ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকেরা সামাজিক মাধ্যমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং অনেকেই এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

ভারত পাকিস্তান সম্পর্কের সঙ্গে জড়িত বিষয়

আসলে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্ক অনেক বছর ধরে উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। এই কারণেই আইপিএলেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের অনেক বছর ধরে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও এক সময় এমনও ছিল যখন দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। সেই সময়েই আইপিএলের শুরু হয় এবং পাকিস্তানি খেলোয়াড়রাও এই লিগে অংশ নিয়েছিলেন।

2008 এর প্রথম মরসুমে খেলেছিলেন খেলোয়াড়রা

আইপিএলের প্রথম আসর 2008 সালে খেলা হয়েছিল। সেই সময় অনেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার বিভিন্ন দলের অংশ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই একই বছরের নভেম্বর মাসে মুম্বাইয়ে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এর পরে পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের আইপিএলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি এবং তখন থেকে এই ধারা চলতে থাকে।

কলকাতা এবং রাজস্থানে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়

আইপিএলের প্রথম আসরে কলকাতার দলে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানি খেলোয়াড় ছিলেন। এই দলে শোয়েব আখতার সালমান বাট উমর গুল এবং মোহাম্মদ হাফিজের মতো খেলোয়াড় ছিলেন। অন্যদিকে রাজস্থানের দলও তিনজন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছিল। তাদের মধ্যে দ্রুত বোলার সোহেল তানভির উইকেটকিপার ব্যাটার উমর আকমল এবং অভিজ্ঞ ব্যাটার ইউনিস খান ছিলেন। সোহেল তানভির দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছিলেন এবং নিজের দলকে শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

দিল্লি এবং হায়দরাবাদ দলেও সুযোগ

সেই সময়ের দিল্লি দল দ্রুত বোলার মোহাম্মদ আসিফ এবং অলরাউন্ডার শোয়েব মালিককে নিজেদের সঙ্গে নিয়েছিল। অন্যদিকে হায়দরাবাদের পুরোনো দল ডেক্কান চার্জার্স বিস্ফোরক অলরাউন্ডার শহিদ আফ্রিদিকে কিনেছিল। আফ্রিদি সেই দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হতো। এর পাশাপাশি বেঙ্গালুরুর দল মিসবাহ উল হককেও নিজেদের সঙ্গে নিয়েছিল যিনি সেই সময় পাকিস্তানের প্রধান ব্যাটারদের একজন হিসেবে ধরা হতো।

নিষেধাজ্ঞার পরেও এক খেলোয়াড় পেলেন সুযোগ

পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের উপর নিষেধাজ্ঞা লাগার পরেও একজন খেলোয়াড় আইপিএলে অংশ নিয়েছিলেন। এই খেলোয়াড় ছিলেন অলরাউন্ডার আজহার মাহমুদ। তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেয়ে গিয়েছিলেন এবং সেই ভিত্তিতেই তাকে সুযোগ দেওয়া হয়। তিনি 2012 এবং 2013 সালে পাঞ্জাব দলের অংশ ছিলেন এবং পরে কলকাতার হয়েও খেলেছিলেন। এখন দ হান্ড্রেডের নিলামে আবরার আহমেদকে নিয়ে ওঠা বিতর্কের পর আবার আইপিএলের শুরুর সময়ের এই ঘটনাগুলো আলোচনায় চলে এসেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button