Cricket

উসমান তারিকের অনন্য অ্যাকশন এখন আলোচনার কেন্দ্র, টিম ইন্ডিয়ার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ?

টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ উসমান তারিকের অনন্য সাইড আর্ম অ্যাকশন আলোচনায়। ডাবল জয়েন্টের সুবিধায় ভিন্ন লাইন-লেন্থে ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করছেন তিনি। ভারত-পাক ম্যাচে তার বোলিং বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ এ পাকিস্তান দল এক নতুন ভরসাযোগ্য খেলোয়াড় পেয়েছে। ২৮ বছর বয়সী স্পিনার উসমান তারিক নিজের আলাদা স্টাইল দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন। এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র ১টি ম্যাচ খেলেছেন, কিন্তু ৩ উইকেট নিয়ে প্রভাব ফেলেছেন। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে তার বোলিং স্টাইল ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

অন্যরকম বোলিং স্টাইল

উসমানের বল করার ধরন সাধারণ স্পিনারদের মতো নয়। তার হাত নিচু দিক থেকে ঘুরে আসে, যাকে সাইড আর্ম স্টাইল বলা হয়। বল ছাড়ার আগে তিনি সামান্য থামেনও। এতে ব্যাটাররা সময় ঠিকমতো আন্দাজ করতে পারেন না। কখনও বল ধীর হয়, কখনও দ্রুত বেরিয়ে যায় এবং টার্নও করে। এই পরিবর্তনই ব্যাটারদের বিভ্রান্ত করে।

ডাবল জয়েন্টের বিশেষত্ব

তার এই স্টাইলের পেছনে একটি বিশেষ কারণও আছে। উসমান নিজেই জানিয়েছিলেন যে তার কনুই ডাবল জয়েন্ট। অর্থাৎ তার হাত স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বাঁকতে পারে। অনেকেই মনে করেন তিনি নিয়ম ভাঙছেন, কিন্তু তার পরীক্ষা হয়েছে এবং তিনি ক্লিন চিট পেয়েছেন। জৈবিক কারণেই তার হাত বাঁকে এবং তিনি এই বৈশিষ্ট্যকেই নিজের শক্তি বানিয়েছেন।

ধোনির গল্প থেকে অনুপ্রেরণা

উসমানের জীবনের গল্পও কম চমকপ্রদ নয়। তিনি আগে দুবাইয়ে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। চাকরি ভালোই চলছিল, কিন্তু ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন তাকে শান্তি দিচ্ছিল না। সেই সময় তিনি এমএস ধোনি দ্য আনটোল্ড স্টোরি সিনেমাটি দেখেন। সেখানে ধোনির সংগ্রামের গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে পাকিস্তানে ফিরে ক্রিকেটে পুরো মন দেন।

দেরিতে সুযোগ, কিন্তু প্রভাবশালী শুরু

উসমান ২৭ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেন। এখন পর্যন্ত তিনি পাকিস্তানের হয়ে ৪টি টি২০ ম্যাচ খেলেছেন। এই ম্যাচগুলোতে ৫.৯৩ ইকোনমিতে ১১ উইকেট নিয়েছেন। একবার এক ইনিংসে ৪ উইকেটও নিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেখায় যে তিনি চাপের মধ্যেও প্রভাব ফেলতে পারেন।

এবার বড় পরীক্ষা

এখন সবার নজর ভারত পাকিস্তান ম্যাচের দিকে। প্রশ্ন একটাই, উসমানের আলাদা স্টাইল কি ভারতীয় ব্যাটিংকে বিপদে ফেলতে পারবে, নাকি টিম ইন্ডিয়া আগেই তার মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। আপাতত পরিষ্কার যে পাকিস্তান একটি নতুন এক্স ফ্যাক্টর পেয়েছে, যা বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button