
কলম্বোতে কি বদলাবে দৃশ্যপট? টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপে ভারত পাকিস্তান খেলোয়াড়রা মেলাবেন হাত, বিতর্কের পর বড় সিদ্ধান্ত
টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এ কলম্বোতে ভারত-পাক ম্যাচের আগে বড় সিদ্ধান্ত। বিতর্কের পর দুই দলের খেলোয়াড়রা আনুষ্ঠানিকভাবে হাত মেলাতে পারেন। এশিয়া কাপের ঘটনার পর এই পদক্ষেপ ক্রীড়াসুলভ সম্পর্কের নতুন সূচনা হতে পারে।
টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ এ ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের আগে দুই বোর্ডের মধ্যে কিছু শর্ত নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে দাবি করেছিল যে ম্যাচ চলাকালীন ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত মিলাবে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দাবিতে সম্মতি হয়েছে। এখন লিগ ম্যাচের আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের আনুষ্ঠানিকভাবে হাত মেলাতে দেখা যেতে পারে।
এশিয়া কাপে কেন হাত মেলানো হয়নি?
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে এশিয়া কাপ চলাকালীন দুই দল মুখোমুখি হয়েছিল। সেই টুর্নামেন্টে তিনবার ম্যাচ হলেও ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত মেলাননি। ১৪ সেপ্টেম্বরের লিগ ম্যাচে টসের সময় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব সালমান আগার সঙ্গে হাত মেলাননি। ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়রা সরাসরি প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। বিষয়টি বেশ আলোচনায় ছিল।
ফাইনালে বাড়ে বিতর্ক
এশিয়া কাপের ফাইনালে বিষয়টি আরও বেড়ে যায়। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় খেলোয়াড়রা ট্রফি নেওয়ার সময় পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পিসিবি সভাপতি মোহসিন নকভির কাছ থেকে ট্রফি নেননি। বলা হয় এতে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনার পর দুই দলের সম্পর্ক নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এখন টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে ধরা হচ্ছে।
কলম্বোতে প্রথম বড় লড়াই
১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি বিশেষ কারণ এশিয়া কাপের পর দুই সিনিয়র দলের এটি প্রথম মুখোমুখি লড়াই। সাধারণত ভারত ও পাকিস্তান এশিয়া কাপ বা আইসিসি টুর্নামেন্টেই একে অপরের বিরুদ্ধে খেলে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই উচ্চ তীব্রতার হয়। কলম্বোর এই লিগ ম্যাচেও কোটি দর্শকের নজর থাকবে।
টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের দাপট
পরিসংখ্যান বলছে টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপে ভারতের পাল্লা ভারী। দুই দল এখন পর্যন্ত আটবার মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ভারত সাতটি ম্যাচ জিতেছে। পাকিস্তান পেয়েছে মাত্র একটি জয়। মোট টি২০ ম্যাচে ১৬টির মধ্যে পাকিস্তান জিতেছে শুধু তিনবার। বড় মঞ্চে ভারতের শক্ত অবস্থান স্পষ্ট।
ম্যাচের আগে নতুন সূচনা?
হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং খেলাধুলার মানসিকতার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিতর্কের পর এই পদক্ষেপ পরিবেশকে কিছুটা স্বাভাবিক করতে পারে। এখন সবার নজর ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে, যেখানে মাঠে লড়াই হবে এবং হয়তো সম্পর্কেও কিছুটা নরম ভাব দেখা যাবে।





