Cricket

বাংলাদেশ বিতর্কে পাকিস্তানের বড় নাটক টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ বয়কটের হুমকি নাকি শুধু চাপের রাজনীতি

বাংলাদেশ ইস্যুতে পাকিস্তানের টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি আদৌ বাস্তব নয় বলেই ইঙ্গিত মিলছে। ফ্লাইট টিকিট বুকিং থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ—সবই বলছে, পিসিবির অবস্থান আসলে চাপ তৈরির কৌশল।

টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ 2026 ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এই মুহূর্তে টানা শিরোনামে। কারণ বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার আইসিসির সিদ্ধান্তে পিসিবির ক্ষোভ। পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি প্রকাশ্যে টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ 2026 বয়কটের কথা বলেছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর 30 জানুয়ারি থেকে 2 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা ঠিক করেছেন এবং বলেছেন এই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এই কড়া বক্তব্যের মধ্যেই এমন বেশ কিছু ইঙ্গিত সামনে আসছে যা পিসিবির দাবিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

বয়কটের হুমকি আর টিকিট বুকিংয়ের বাস্তবতা
একদিকে পাকিস্তান বোর্ড বয়কটের কথা বলছে অন্যদিকে দলের শ্রীলঙ্কা যাওয়ার ফ্লাইটের টিকিট আগেই বুক করা হয়ে গেছে। পাকিস্তানকে টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ 2026-এ তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে হবে। রিপোর্ট অনুযায়ী দলটি লাহোর থেকে কলম্বোর উদ্দেশ্যে সেই একই ফ্লাইটে যাবে যেটিতে অস্ট্রেলিয়ান দলও যাত্রা করবে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে সরে যাওয়ার মুডে নেই এবং বয়কটের কথা শুধুই চাপ তৈরির কৌশল হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী থেকে সেনা পর্যন্ত পরামর্শ
মোহসিন নকভি এই ইস্যুতে শুধু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই নয় বরং একাধিক উচ্চ পর্যায়ে পরামর্শ করেছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাঁকে বয়কট না করার এবং অন্য কোনও উপায়ে বাংলাদেশকে সমর্থন করার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি এবং সেনাবাহিনীর কাছ থেকেও এই বিষয়ে মত নেওয়া হয়েছে। সবার বার্তা একটাই যে পাকিস্তানের টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ থেকে দূরে থাকা উচিত নয়।

ভারত ম্যাচ নিয়েও সতর্কবার্তা
রিপোর্টে আরও জানা গেছে যে ভারতের বিরুদ্ধে হওয়া ম্যাচ বয়কট না করার কড়া পরামর্শও নকভিকে দেওয়া হয়েছে। আগে পিসিবির সামনে একাধিক বিকল্প রাখা হয়েছিল যার মধ্যে পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট বা শুধু ভারত ম্যাচ থেকে সরে যাওয়া ছিল। কিন্তু এখন মনে করা হচ্ছে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললেও পাকিস্তানের বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই এই বিকল্প থেকেও সরে আসার কথা বলা হচ্ছে।

কালো ব্যান্ড পরে সমর্থন দেখানোর পরিকল্পনা
এখন খবর রয়েছে যে পাকিস্তান বয়কটের বদলে বাংলাদেশের সমর্থনে কালো ব্যান্ড বেঁধে ম্যাচ খেলার অনুমতি চাইতে পারে। এর জন্য আইসিসিকে চিঠি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ধারণা করা হচ্ছে পাকিস্তান তাদের অসন্তোষ জানাতে এই পথ বেছে নিতে পারে যাতে টুর্নামেন্টেও থাকা যায় আবার প্রতিবাদও নথিভুক্ত হয়।

বয়কট করলে পাকিস্তানের বড় ক্ষতির আশঙ্কা
টি২০ ওয়ার্ল্ড কাপ 2026 বয়কট করা পাকিস্তানের জন্য ভীষণ ব্যয়বহুল প্রমাণ হতে পারে। আইসিসি একে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরে কড়া পদক্ষেপ নিতে পারে। পাকিস্তানকে আইসিসির টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে এবং প্রতিবছর যে বড় অঙ্কের অর্থ পায় সেটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগের উপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। এই কারণেই এত হুমকির পরেও এখন ইঙ্গিত মিলছে যে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট খেলবে এবং বাংলাদেশ ইস্যুতে কেবল চাপের রাজনীতিই করবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button