Cricket

টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ বাইরে, ভারতে না এলে হবে এত কোটি টাকার ক্ষতি, স্কটল্যান্ডের এন্ট্রি প্রায় নিশ্চিত!

টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ থেকে বাংলাদেশ বাইরে থাকলে বিসিবির প্রায় ২৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। ভারতে খেলতে অস্বীকারের পর স্কটল্যান্ডের এন্ট্রি প্রায় নিশ্চিত, যা টুর্নামেন্টের সমীকরণ বদলে দেবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা পুরুষ টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর জন্য তাদের দলকে ভারতে পাঠাবে না। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বোর্ড আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের কাছে অনুরোধ করেছিল, যাতে তাদের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা হয়। কিন্তু পরিষদ সূচিতে কোনও পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে। এর পর বাংলাদেশ কঠোর অবস্থান নিয়ে ভারতে আসতে না বলায় টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে।

স্কটল্যান্ড পেতে পারে সুযোগ
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর এখন প্রায় নিশ্চিত ধরা হচ্ছে যে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, খালি হওয়া জায়গা র‍্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে পূরণ করা যেতে পারে। সেই কারণে স্কটল্যান্ডের নামই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে ওয়ার্ল্ড কাপের সমীকরণ বদলে যেতে পারে এবং গ্রুপের ছবিও আলাদা রূপ নেবে।

বিসিবির বড় আর্থিক ধাক্কা
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যদি বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কাপ না খেলে, তাহলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে প্রায় ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৪০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এর মধ্যে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং বার্ষিক ক্রিকেট আয় অন্তর্ভুক্ত। দাবি করা হচ্ছে, এই ক্ষতি বোর্ডের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা যে কোনও ক্রিকেট বোর্ডের জন্য বড় ধাক্কা।

সরকারের যুক্তি, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল খেলোয়াড়দের সঙ্গে বৈঠকের পর বলেন, পরিষদের নিরাপত্তা রিপোর্ট তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, ভারতে খেলোয়াড়, সাংবাদিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা সন্তুষ্ট নন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত সরকারের এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি তিনি জানান, বাংলাদেশ এখনও আশা করছে যে পরিষদ ন্যায়বিচার দেখিয়ে তাদের শ্রীলঙ্কায় খেলতে অনুমতি দেবে।

ভারত ও বোর্ডের কতটা ক্ষতি
বাংলাদেশ না খেলায় ভারতের ক্ষতি সীমিত বলেই মনে করা হচ্ছে, তবে টিকিট বিক্রিতে প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বইয়ে নির্ধারিত ছিল। ঢাকা থেকে এই শহরগুলিতে সরাসরি ফ্লাইট থাকার কারণে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি দর্শকের আসার সম্ভাবনা ছিল। অনুমান করা হচ্ছে, শুধু কলকাতারই ৩০ থেকে ৬০ কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার প্রভাব ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের আয়ের উপর পড়বে।

বিশ্বমঞ্চে ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন
আগে পাকিস্তান এবং এখন বাংলাদেশের ভারতে খেলতে অস্বীকার করার পর আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের ভাবমূর্তি নিয়েও আলোচনা জোরদার হতে পারে। কিছু বৈশ্বিক মহলে এই ধারণা তৈরি হতে পারে যে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও পরিষদ পরিষ্কার করে দিয়েছে যে সূচিতে কোনও পরিবর্তন হবে না। এখন সকলের নজর এই দিকেই, বাংলাদেশ তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে নাকি শেষ মুহূর্তে কোনও নতুন মোড় আসে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button