
সেই বন্ধ ঘরের বৈঠকে কী হয়েছিল, যেখানে ঠিক হল বাংলাদেশ ভারতে টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলবে না, এক ক্লিকেই পড়ুন
বন্ধ ঘরের বৈঠকে সরকারের প্রভাবেই বাংলাদেশ ভারতে টি২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। খেলোয়াড়দের নীরবতা, বুলবুলের সীমিত ভূমিকা ও আইসিসিতে সমর্থন না পাওয়ায় এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বড় আর্থিক ও ক্রীড়াগত ক্ষতির মুখে।
বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকে। কারণ ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের সেই স্পষ্ট অবস্থান, যেখানে বলা হয়েছিল টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এর ম্যাচগুলি ভারতেই হবে এবং ভেন্যু পরিবর্তন করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশ ভারতে খেলতে অস্বীকার করার প্রস্তুতি নেয়। প্রশ্ন উঠেছিল, এই সিদ্ধান্ত কি খেলোয়াড়দের মতামত নিয়ে নেওয়া হয়েছে, নাকি সরকারের চাপই এখানে প্রাধান্য পেয়েছে।
বৈঠকে কার কথা চলল
সূত্রের খবর, বৈঠকে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ভূমিকা তুলনামূলকভাবে সীমিতই ছিল। সিনিয়র খেলোয়াড়রা খোলাখুলি কথা বলতে এড়িয়ে যান। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, যদি তামিম ইকবালের মতো সিনিয়র খেলোয়াড়কে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাহলে অন্য খেলোয়াড়দের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।
খেলোয়াড়দের নীরবতার কারণ
খেলোয়াড়দের ধারণা ছিল, বিষয়টি আর শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। যখন এটিকে জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, তখন এর বিরোধিতা করা সহজ ছিল না। বৈঠকের পর আসিফ নজরুল বলেন, খেলোয়াড়দের সরকারী সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি এটাও স্পষ্ট করেন যে এটি একটি ব্যক্তিগত আলোচনা ছিল, তাই খেলোয়াড়দের মতামত প্রকাশ্যে আনা হবে না।
বুলবুলের হতাশা
বৈঠকের পর আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে বেশ হতাশ দেখায়। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার আশা প্রকাশ করলেও আত্মবিশ্বাসের অভাব স্পষ্ট ছিল। বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বুলবুলের নামের সঙ্গে এখন এমন এক রেকর্ড জুড়তে চলেছে, যেখানে তাঁর কার্যকালে দল কোনও আন্তর্জাতিক বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।
সমর্থন কেন মেলেনি
বুলবুল আগে প্রায় ১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবু সেখানে তিনি কোনও জোরালো সমর্থন পাননি। পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বাদ দিলে, না পরিষদের বোর্ড, না শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে বুলবুলের গ্রহণযোগ্যতায় বড় ধাক্কা লেগেছে।
ক্ষতি এবং জনমত
যদি বাংলাদেশ টি-২০ ওয়ার্ল্ড কাপের বাইরে থাকে, তাহলে ক্রিকেট বোর্ডের প্রায় ৩২৫ কোটি টাকার সরাসরি ক্ষতি হতে পারে। মোট আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি আগস্ট-সেপ্টেম্বরে প্রস্তাবিত ভারত-বাংলাদেশ সিরিজও অনিশ্চয়তার মুখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনমত বিভক্ত। কেউ এই সিদ্ধান্তকে সঠিক বলছেন, আবার অনেকের মতে এর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে খেলোয়াড়দের এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটেরই।





