Cricket

৩০ ঘণ্টার ভূচালের পর থামল বাংলাদেশ ক্রিকেটের বিক্ষোভ, খেলোয়াড়রা প্রত্যাহার করল বিদ্রোহ, আবার শুরু হচ্ছে বিপিএল

Bangladesh Cricket Board–এর সঙ্গে সমঝোতায় ৩০ ঘণ্টার বিদ্রোহ প্রত্যাহার করল ক্রিকেটাররা। সিনিয়র কর্মকর্তার মন্তব্য ঘিরে তৈরি সংকট কাটিয়ে আবার শুরু হচ্ছে বিপিএল, মাঠে ফিরছেন খেলোয়াড়রা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে গত কয়েক দিন ধরে চলা বড় বিতর্ক আপাতত শান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। বোর্ডের এক সিনিয়র কর্মকর্তার মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠা খেলোয়াড়রা তাদের বিদ্রোহ প্রত্যাহার করেছে। খেলোয়াড়দের বয়কটের কারণে স্থগিত হওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ আবার শুরু হতে চলেছে। বোর্ড ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আলোচনার পর গভীর রাতে সমঝোতার পথ বের হয়। এখন আশা করা হচ্ছে ১৬ জানুয়ারি থেকে বিপিএলের ম্যাচ আবার মাঠে গড়াবে।

বোর্ডের জন্য কঠিন ছিল ৩০ ঘণ্টা
ভারত ও আইসিসির সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপ নিয়ে আগে থেকেই চাপের মধ্যে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য এই ৩০ থেকে ৩৫ ঘণ্টা ছিল ভীষণ কঠিন। একটি মন্তব্য এমন ঝড় তোলে যে খেলোয়াড়রা প্রকাশ্যে বিদ্রোহে নামেন। ঘরোয়া লিগের ম্যাচ স্থগিত করতে হয় এবং বোর্ডকে গোটা বিশ্বের সামনে অস্বস্তির মুখে পড়তে হয়। বোর্ড পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও বিষয়টি হাতের বাইরে চলে যেতে বসেছিল।

বিতর্কের শুরু যেভাবে
এই পুরো বিতর্কের শুরু ১৪ জানুয়ারি, যখন বোর্ডের এক ডিরেক্টর সাংবাদিক সম্মেলনে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যদি টি২০ বিশ্বকাপে না খেলে তাহলে বোর্ডের কোনও ক্ষতি হবে না, ক্ষতি হবে শুধু খেলোয়াড়দের, কারণ তারা ম্যাচ ফি পাবে না। এখানেই থামেননি তিনি, আরও বলেন বোর্ড ইতিমধ্যেই খেলোয়াড়দের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে কিন্তু তার বিনিময়ে বড় কোনও পারফরম্যান্স পায়নি।

খেলোয়াড়দের বয়কট ও কঠোর অবস্থান
এই মন্তব্যের পর খেলোয়াড়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ক্রিকেট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে তারা বিপিএল বয়কটের ঘোষণা করে। তারা স্পষ্ট জানায়, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা কোনও টুর্নামেন্টে খেলবে না। ১৫ জানুয়ারি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়, যখন বিপিএলের ম্যাচ স্থগিত হয় এবং খেলোয়াড়রা সাংবাদিক সম্মেলন করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে।

ম্যাচ বাতিল ও বোর্ডের পদক্ষেপ
খেলোয়াড়দের অনড় অবস্থানের কারণে ১৫ জানুয়ারি দিনের দুটি ম্যাচ বাতিল করতে হয় এবং বিপিএল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। চাপের মুখে পড়ে বোর্ড সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নোটিস দেয় এবং ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেয়। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে ডিরেক্টর পদে রাখা হয়।

গভীর রাতে সমঝোতা ও নতুন শুরু
একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর অবশেষে ১৫ জানুয়ারির রাতে সমঝোতা হয়। রাত প্রায় পৌনে বারোটার দিকে বোর্ড ও খেলোয়াড়রা যৌথভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে বিদ্রোহ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। খেলোয়াড়রা জানায়, দেশ ও ক্রিকেটের স্বার্থে তারা আবার মাঠে ফিরতে প্রস্তুত। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে এবং বিপিএল আবার নিজের ছন্দে ফিরতে চলেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button