
সিডনিতে ট্র্যাভিস হেডের ঝড়, নিউ ইয়ার টেস্টে ১৬৩ রান করে অ্যাশেজে রেকর্ডের বন্যা
সিডনি নিউ ইয়ার টেস্টে ট্র্যাভিস হেড ১৬৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে অ্যাশেজে রেকর্ডের বন্যা বইয়ে দিলেন। টানা তৃতীয় শতরানে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান ট্র্যাভিস হেড নতুন বছরের শুরুটা স্মরণীয় করে তুলেছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিডনিতে চলা নিউ ইয়ার টেস্টে হেড ১৬৬ বলে ১৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। চলতি অ্যাশেজ সিরিজে এটি তাঁর তৃতীয় শতরান, যা ইংলিশ বোলারদের পুরোপুরি ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে।
অ্যাশেজ সিরিজে টানা তৃতীয় শতরান
এর আগে ট্র্যাভিস হেড পার্থ স্টেডিয়ামে ১২৩ রান এবং অ্যাডিলেড ওভালে ১৭০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। সিডনি টেস্টেও তিনি সেই ছন্দ বজায় রেখে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। চলতি অ্যাশেজে হেড অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে উঠে এসেছেন।
ডন ব্র্যাডম্যানকে ফের পেছনে ফেললেন
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত হেড ৯১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তৃতীয় দিনে তিনি আক্রমণাত্মক ভঙ্গি বজায় রেখে ১০৫ বলে নিজের টেস্ট কেরিয়ারের ১২তম শতরান পূর্ণ করেন। এরপর ১৫২ বলে ১৫০ রানের গণ্ডি পার করেন, যা অ্যাশেজ ইতিহাসে যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ১৫০ রান। এই ইনিংসে তিনি কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যানের ১৯৩০ সালের রেকর্ডও ভেঙে দেন।
অ্যাশেজ ইতিহাসে দ্রুততম ১৫০–এর বিশেষ ক্লাব
অ্যাশেজে সবচেয়ে দ্রুত ১৫০ রান করার তালিকায় এখন ট্র্যাভিস হেডের নাম দু’বার রয়েছে। তিনি ২০২১ সালে ব্রিসবেনে এবং এবার ২০২৬ সালে সিডনিতে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। এতে প্রমাণ হয় বড় মঞ্চে কত দ্রুত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।
SCG–তে প্রথম শতরান, কিংবদন্তিদের ক্লাবে এন্ট্রি
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এটি হেডের প্রথম টেস্ট শতরান। এই সেঞ্চুরির সঙ্গে তিনি স্টিভ ওয়, ম্যাথিউ হেডেন, জাস্টিন ল্যাঙ্গার এবং ডেভিড ওয়ার্নারের মতো কিংবদন্তিদের বিশেষ ক্লাবে ঢুকে পড়েছেন। এখন হেড অস্ট্রেলিয়ার পঞ্চম ব্যাটসম্যান, যিনি সাতটি ভিন্ন ভেন্যুতে টেস্ট শতরান করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভরসার নতুন নাম
ট্র্যাভিস হেডের এই ইনিংস শুধু বড় স্কোর নয়, অস্ট্রেলিয়ার মানসিক আধিপত্যের প্রতীক। আক্রমণাত্মক ভঙ্গি, রেকর্ডভাঙা গতি আর কঠিন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়ে সিডনিতে হেড প্রমাণ করে দিলেন যে চলতি অ্যাশেজে তিনিই অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি।





