
২৩ চার-ষষ্ঠকের ঝড়, ১৬০ রানের গর্জন: বৈভব সূর্যবংশীর বন্ধু ধ্রুব জুরেল রচনা করেছে বিজয় হজারে ইতিহাস
বিজয় হাজারে ট্রফিতে ধ্রুব জুরেল ২৩টি চার-ছক্কায় অপরাজিত ১৬০ রান করে ইতিহাস গড়লেন। ইউপির বিশাল স্কোর, রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে জুটি ও ধারাবাহিক ফর্মে জুরেল এখন টুর্নামেন্টের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
বিজয় হজারে ট্রফিতে ধ্রুব জুরেলের নাম এই মুহূর্তে প্রত্যেক ক্রিকেট ফ্যানের জিভে। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ ব্যাটসম্যান বড়োয়ার বিরুদ্ধে এমন পারি খেলেছে, যা ম্যাচের দিক-দশা দুটোই বদলে দিয়েছে। ইউপিকে যখন স্থিতিশীল পারির দরকার ছিল, তখন জুরেল আক্রমণাত্মকতাকে তার অস্ত্র বানিয়েছে। নম্বর তিনে নামতে না নামতেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে আজ শুধু রান নয়, রেকর্ড ভাঙবে। প্রত্যেক বলে উদ্দেশ্য স্পষ্ট ছিল এবং শুরুর ওভারগুলোতেই চার-ষঠকের বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। বলবাজরা বুঝতেই পারেনি আসলে কোন লাইনে বল দিতে হবে।
রোহিত শর্মা স্টাইলে ষঠকের বর্ষা
ধ্রুব জুরেলের ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মকতার অদ্ভুত মিশ্রণ দেখা গেছে। ৭৮ বলে শতক সম্পূর্ণ করেছে এবং এরপর আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ১০০ থেকে ১৫০ রানের যাত্রা মাত্র ১৯ বলে অতিক্রান্ত করেছে। রসিখ সালাম এবং রাজ লিম্বানি যেমন বলবাজদের একটাও চলেনি। প্রত্যেক ওভারে বাউন্ডারি বেরিয়ে আসছিল এবং স্টেডিয়ামে বসা দর্শকরাও অবাক হয়ে গেছে। ১০১ বলে নাবাদ ১৬০ রান, ৮ ষঠক এবং ১৫ চার—এই সংখ্যাগুলো নয়, এক তরুণ ব্যাটসম্যানের গর্জন ছিল, যা প্রতিপক্ষের হিমশিম খেয়ে গেছে।
রিঙ্কু সিংহের সঙ্গী এবং ইউপির বিশাল স্কোর
এই পারি শুধু ব্যক্তিগত প্রদর্শন ছিল না। ক্যাপ্টেন রিঙ্কু সিংহ অন্য প্রান্ত থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক আঁকড়ে ধরে জুরেলের পুরো সঙ্গ দিয়েছে। অভিষেক গোস্বামী এবং প্রশান্ত বীরও দ্রুত রান যোগ করেছে। ফলস্বরূপ উত্তর প্রদেশ ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৬৯ রানের পর্বতের মতো স্কোর গড়ে তুলেছে। বড়োয়ার বলবাজরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এবং ফিল্ডারদের মুখ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে এই স্কোর শুধু বোর্ডে নয়, মাথায়ও ভারী পড়ে গেছে।
সঙ্গত নয়, ক্রমাগত ফর্মের ফলাফল
ধ্রুব জুরেলের এই ঝড় হঠাৎ আসেনি। বিজয় হজারে ট্রফিতে এর আগে হায়দ্রাবাদের বিরুদ্ধে ৮০ এবং চণ্ডীগড়ের বিরুদ্ধে ৬৭ রান করেছে। এটা তার ক্রমাগত তৃতীয় ফিফটি প্লাস স্কোর এবং লিস্ট এ ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। ভারতের ওয়ানডে দলে নির্বাচিত হওয়া সত্ত্বেও খেলার সুযোগ না পাওয়া হয়তো তার ভিতরের ক্ষুধাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের জন্য খেলা এই ব্যাটসম্যান এখন বৈভব সূর্যবংশীর সঙ্গে আগামী সময়ের বড় গল্প তৈরি করতে দেখা যাচ্ছে। এই পারির পর ধ্রুব জুরেলকে উপেক্ষা করা সহজ নয়, কারণ ভারতীয় ক্রিকেটকে আরেক বিপজ্জনক ম্যাচ উইনার মিলে গেছে।





