Cricket

ক্রিকেটের ভিত্তি গড়ে দেওয়া ‘কোকো’, রাজনীতিতে ফিরলেন ভাই তারিক, বদলাবে কি বাংলাদেশের খেলা ও ক্ষমতার সমীকরণ?

তারিক রহমানের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের মাঝেই ফের আলোচনায় আরাফাত রহমান ‘কোকো’। রাজনীতি নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভিত গড়ে যাওয়া এই মানুষটির অবদান আজও দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অমলিন।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারিক রহমানের দেশে ফেরা বড় শিরোনাম হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির কার্যনির্বাহী সভাপতি তারিককে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে দলীয় কর্মীদের বিশাল ভিড় জমে ওঠে। কিন্তু এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেই আবার আলোচনায় এসেছে এক নাম, যিনি ক্ষমতার রাজনীতির নয়, ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—আরাফাত রহমান ‘কোকো’। এক ভাই এগিয়েছেন রাজনীতির পথে, অন্য ভাই ক্রিকেট মাঠের ভিত মজবুত করে গেছেন।

ক্ষমতা থেকে দূরে, ক্রিকেটের কাছাকাছি ‘কোকো’
আরাফাত রহমান ‘কোকো’-র জন্ম ১২ আগস্ট ১৯৬৯ সালে। রাজনৈতিক পরিবারে জন্মালেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিজের প্রভাব ব্যবহার করেছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করতে। ওল্ড DOHS স্পোর্টস ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ক্লাব ক্রিকেটকে নতুন পরিচয় দেন। আধুনিক কোচ, পেশাদার ফিজিও, প্রাকৃতিক উইকেট ও বোলিং মেশিনের মতো সুবিধাগুলি তাঁর ভাবনারই ফল।

রাজনীতি নয়, ক্রিকেটই ছিল তাঁর পথ
‘কোকো’-র দূরদর্শিতার প্রভাব সরাসরি খেলোয়াড়দের উপর পড়ে। ওল্ড DOHS-এর হয়ে খেলতে গিয়ে তামিম ইকবালের ১৮৮ রানের ইনিংস জাতীয় নির্বাচকদের নজর কেড়েছিল। পরে ‘কোকো’ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হন। এজ গ্রুপ ক্রিকেটকে শক্ত ভিত দেন, যার ফলশ্রুতিতে শাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও তামিম ইকবালের মতো স্বর্ণালী প্রজন্ম তৈরি হয়। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সফল আয়োজন এবং শের-এ-বাংলা স্টেডিয়ামকে ক্রিকেটের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ভাবনাও ছিল তাঁর বড় কৃতিত্ব।

বিতর্ক, জেল আর অপূর্ণ গল্প
ক্রিকেটকে গড়ে তোলা ‘কোকো’-র জীবন বিতর্ক থেকেও মুক্ত ছিল না। ২০০৭ সালে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং মানি লন্ডারিং মামলায় সাজা হয়। জেল থেকে মুক্তির পর তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে চলে যান। ২৪ জানুয়ারি ২০১৫ সালে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া ‘কোকো’ রাজনীতিকে নয়, ক্রিকেটকেই বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এমন এক ভিত্তি দিয়ে গেছেন, যার উপর দাঁড়িয়েই আজকের সাফল্য। আজ যখন তারিক রহমান ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন, তখন ‘কোকো’-র নাম বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button