Cricket

কোচ বাবার বড় সিদ্ধান্ত, ছেলের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে চাকরি ছাড়লেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটে তোলপাড়

ছেলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ থামাতে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। নুহায়েল সানদীদের ভবিষ্যৎ বাঁচাতে ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিং ছাড়লেন তিনি, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ১৭ বছরের চিনাম্যান বোলার নুহায়েল সানদীদ। হাই পারফরম্যান্স ইউনিটে নির্বাচন থেকে শুরু করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ও জাতীয় নেটে বল করা-সব জায়গাতেই তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। কারণ তার বাবা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, যিনি দেশের অন্যতম সফল ঘরোয়া কোচ হিসেবে পরিচিত। ক্রমাগত সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি বড় সিদ্ধান্ত নিলেন। সালাউদ্দিন ঘোষণা করেছেন, তিনি আর ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিং করবেন না, যাতে তার উপস্থিতির কারণে ছেলের ক্যারিয়ারে কোনো দাগ না লাগে।

নামের পাশে লেগে থাকা অভিযোগে ক্লান্ত
সালাউদ্দিন স্পষ্ট বলেন, বারবার এই অভিযোগ ওঠা যে ছেলে বাবার কারণে এগোচ্ছে-নুহায়েলের মানসিক বিকাশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি অনুভব করেছেন, কোচিং চালিয়ে গেলে এই সমালোচনা ছেলের আত্মবিশ্বাস ভেঙে দিতে পারে। তার মতে, প্রতিটি সন্তান তার বাবাকে নায়ক মনে করে, আর যদি বাবা বিতর্কে জড়ান, তার চাপ সরাসরি সন্তানের মনে পড়ে। তাই তিনি কোচিং ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে নুহায়েল সম্পূর্ণ নিজের যোগ্যতায় উঠে আসতে পারে এবং সমালোচনা থেকে দূরে থাকতে পারে।

আর্থিক ক্ষতির পরোয়া নেই
সালাউদ্দিন আরও জানান, এই সিদ্ধান্তের আর্থিক দিক তাকে একদমই ভাবায় না। সম্মান ও মানসিক শান্তি তার কাছে টাকার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান। তিনি স্বীকার করেন, তিনি এখনো ছেলেকে ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণ দেননি, তবে পেশাদার কোচিং ছাড়ার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে নুহায়েলকে গাইড করবেন। এখন তিনি শুধু ক্রিকেট একাডেমিগুলোতে কাজ করবেন, যেখানে চাপমুক্ত পরিবেশে তরুণ খেলোয়াড়দের তৈরি করার সুযোগ থাকবে।

ওয়ান-টু-ওয়ান কোচিংকেই ভবিষ্যৎ বললেন
সালাউদ্দিন মনে করেন, ভবিষ্যতে এক-জনের বিপরীতে এক-জন কোচিংয়ের চাহিদা আরও বাড়বে। তিনি ভারতীয় ব্যাটার অভিষেক শর্মার উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছয় বছর আগে তিনি সাধারণ মানের ব্যাটার ছিলেন, কিন্তু যুবরাজ সিংয়ের ব্যক্তিগত প্রশিক্ষণে তিনি আজ সম্পূর্ণ বদলে গেছেন। সালাউদ্দিন মনে করেন বাংলাদেশকেও এই পথে এগোতে হবে, যাতে আরও বেশি প্রতিভা উঠে আসতে পারে। নুহায়েলকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই তার এই সিদ্ধান্ত নতুন করে প্রশ্ন তুলছে-বাংলাদেশ ক্রিকেটে কোচদের ভূমিকা কি কখনও পারিবারিক সম্পর্কের কারণে প্রভাবিত হয়?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button