
চার বলে দুই উইকেট, রানআউটের ধাক্কা… তবুও কীভাবে বাংলাদেশ জিতে নিল রোমাঞ্চকর লড়াই? এক ক্লিকে পড়ুন
চার বলে দুই উইকেট ও রানআউটের চাপ সামলেও সাইফউদ্দিনের ঝড়ে বাংলাদেশ রোমাঞ্চকর জয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল। লিটনের অর্ধশতক ও মাহেদির তিন উইকেট ছিল জয়ের মূল ভরসা।
দ্বিতীয় টি২০আই-এ অধিনায়ক লিটন দাসের গুরুত্বপূর্ণ অর্ধশতক বাংলাদেশকে আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে দারুণ জয় এনে দেয় এবং সিরিজকে ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনে। ১৭১ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে বাংলাদেশ এক সময় ম্যাচের পুরো নিয়ন্ত্রণে ছিল। লিটন চমৎকার ছন্দে খেলছিলেন, কিন্তু তাঁর উইকেট পড়তেই আয়ারল্যান্ড ফিরে আসার সুযোগ পায়। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ ধৈর্য হারায়নি এবং দুই বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয়। এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ সফল টি২০আই রানচেজও।
টেক্টর-স্টার্লিংয়ের ঝড়ো শুরু, তারপর মাহেদির জাদুতে ম্যাচ ঘুরে গেল
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল। টিম টেক্টর ও পল স্টার্লিং প্রথম দুই ওভারেই ২৭ রান তুলে নেন। স্টার্লিং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের প্রথম ওভারে ১৬ রান নেন, যদিও এরপর আউট হয়ে যান। পাওয়ারপ্লেতে আয়ারল্যান্ড তোলে ৭৫/১ এবং মনে হচ্ছিল স্কোর ২০০-এর দিকে যাবে। ঠিক তখনই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দেন মাহেদি হাসান। একই ওভারে তিনি টিম টেক্টর ও হ্যারি টেক্টরকে ফেরান। নিজের শেষ ওভারে আরও একটি উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত ৩/২৫ স্পেল সম্পন্ন করেন। এর পর আয়ারল্যান্ডের রান তোলার গতি কমে যায় এবং লোরকান টাকরের ৪১ রানের ইনিংস সত্ত্বেও তারা ১৭০ রানে থেমে যায়।
লিটন-পারভেজের জুটি রাখল জয়ের ভিত্তি
চেজে নামার পর বাংলাদেশ ইতিবাচক শুরু পায়। পারভেজ হোসেন দ্রুত রান তুলতে থাকেন, যদিও তানজিদ হাসান তাল খুঁজে পাননি। ছয় ওভার শেষে লিটন ও পারভেজ দলকে নিয়ে যান ৬৬/১-এ। বিরতির ঠিক পরে পারভেজ রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হন এবং পরের ওভারেই লিটনও প্রায় ক্যাচ আউট হয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফিল্ডারের কোমরের তোয়ালে বাউন্ডারি কুশনে লেগে যাওয়ায় সেটি ক্যাচ হিসেবে গণ্য হয়নি।
এরপর লিটন ডেলানির ওভারে বাউন্ডারি মারেন এবং সাইফ হাসান লং অনের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে রান তোলার গতি বজায় রাখেন। লিটন দুর্দান্ত স্লগ সুইপ মেরে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং বাংলাদেশকে জয়ের খুব কাছাকাছি নিয়ে আসেন। শেষ পাঁচ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৪২ রান।
শেষ ওভারে উত্তেজনা, সাইফউদ্দিন হলেন উদ্ধারকর্তা
যখন মনে হচ্ছিল জয় অনায়াসেই আসবে, ঠিক তখনই চার বলের ব্যবধানে লিটন ও সাইফ হাসান দুজনই আউট হয়ে যান। তার ওপর রানআউটের ধাক্কা বাংলাদেশকে আরও চাপে ফেলে দেয় এবং আয়ারল্যান্ড নতুন করে জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। শেষের ওভারগুলোতে উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, কিন্তু মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি দুইটি চার ও একটি ছক্কা মেরে চাপ কমান এবং শেষ পর্যন্ত দুই বল হাতে রেখেই বাংলাদেশকে জয় উপহার দেন।
এই জয় শুধু সিরিজ সমতায় ফেরানোর জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাসও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।





