Cricket

টেস্টই নয়, মুশফিকুর রহিম ODI উইকেটকিপিংয়েও রচনা করলেন ইতিহাস, বিশ্বের টপ-৫ স্টাম্পারের এলিট তালিকায় জায়গা

মুশফিকুর রহিম ODI ক্রিকেটে ৫৬ স্টাম্পিংসহ বিশ্বের টপ-৫ উইকেটকিপারের তালিকায় জায়গা করে ইতিহাস গড়লেন। ধোনি, সাঙ্গাকারাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বাংলাদেশের সেরা উইকেটকিপার হিসেবে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে উইকেটকিপারের দায়িত্ব শুধু ক্যাচ ধরা পর্যন্ত সীমিত থাকে না। অনেক সময় একটি বজ্রগতির স্টাম্পিং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এই ফরম্যাটে বিশ্বজুড়ে বহু দুর্দান্ত উইকেটকিপার এসেছেন, কিন্তু কয়েকজন এমন ছিলেন যারা তাদের ফুর্তি, রিফ্লেক্স এবং গ্লাভস ওয়ার্ক দিয়ে আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন। সেই তালিকাতেই এখন জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম, যিনি ODI ইতিহাসের সবচেয়ে সফল উইকেটকিপারদের মধ্যে নিজের নাম লিখিয়েছেন।

ধোনি-নম্বর ১, যাঁর জবাব নেই
এই তালিকায় শীর্ষে আছেন ভারতের মহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০০৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে খেলা ৩৫০ ওয়ানডে ম্যাচে ধোনি মোট ১২৩ স্টাম্পিং করেছেন-যা ODI ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তাঁর বিদ্যুৎগতির রিফ্লেক্স এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে বিশ্বের সেরা উইকেটকিপার বানিয়েছে। ধোনির ক্যারিয়ারে ৪৪৪ ডিসমিসাল রয়েছে, যার মধ্যে ৩২১ ক্যাচ এবং এক ইনিংসে ৬টি ডিসমিসালের রেকর্ডও আছে।

সাঙ্গাকারা-উইকেটের পেছনের ‘যাদুকর’
দ্বিতীয় স্থানে আছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা, যিনি ৪০৪ ম্যাচে ৯৯ স্টাম্পিং করেছেন। তাঁর ফিটনেস, টেকনিক এবং বোলারদের সঙ্গে অসাধারণ বোঝাপড়া তাঁকে বিশ্বের সবচেয়ে স্মার্ট উইকেটকিপারদের একজন করে তুলেছে।

কালুভিথরণা—স্পিনারদের সবচেয়ে ভরসার সঙ্গী
শ্রীলঙ্কার রমেশ কালুভিথরণা ৭৫ স্টাম্পিং নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন। মুরালিধরনের মতো কিংবদন্তি স্পিনারের সঙ্গে তাঁর জুটি ব্যাটসম্যানদের জন্য ছিল এক দুঃস্বপ্ন।

মোইন খান-পাকিস্তানের দুর্ধর্ষ গ্লাভসম্যান
চতুর্থ স্থানে পাকিস্তানের মোইন খান, যিনি তাঁর ক্যারিয়ারে ৭৩ স্টাম্পিং ও ২১৪ ক্যাচ ধরে মোট ২৮৭ ডিসমিসাল করেছেন। স্পিনারদের সঙ্গে তাঁর চমৎকার বোঝাপড়া ছিল বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

মুশফিকুর রহিমের নাম টপ-৫ এ
এখন এই এলিট তালিকায় যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিমের নামও। ২০০৬ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত খেলা ২৭৪ ওয়ানডে ম্যাচে মুশফিক ৫৬ স্টাম্পিং ও ২৪৩ ক্যাচ মিলিয়ে মোট ২৯৭ ডিসমিসাল করেছেন। শান্ত স্বভাব, নিখুঁত টেকনিক এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ভরসার ক্রিকেটারদের একজন। এই তালিকায় তাঁর যোগ হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বিরাট গর্ব, কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন যে উইকেটের পেছনের দক্ষতায়ও এশিয়ার দিগ्गজদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো যায়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button