Cricket

ন সচিন তেণ্দুলকর কর पाए, ন বিরাট কোহলি কর पाए, বাংলাদেশের খেলোয়াড় লহারায়া পরচম, হাসিল করেছেএই মুকাম

মুশফিকুর রহিম মিরপুরে নিজের ১০০তম টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়লেন। বিশ্বে মাত্র ১১তম এবং বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি তাঁর। এই রেকর্ড সচিন, কোহলি এমনকি দ্রাবিড়ও করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যে মীরপুরে খেলা হচ্ছে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের শেষ মোকাবিলা। এটা শুধুমাত্র একটা সাধারণ টেস্ট ম্যাচ নয়, বরং বাংলাদেশের দিগগজ উইকেটকিপার-বলিবাজ মুশফিকুর রহিমের ক্যারিয়ারের ১০০তম টেস্টও বটে। ৩৮ বছর বয়সি রহিম এই মুকামে পৌঁছানোর প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হয়েছেন। তিনি এই বিশেষ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার একটুও সুযোগ ছাড়েননি এবং দুর্দান্ত সেঞ্চুরি জড়ে মাঠে উপস্থিত প্রত্যেক দর্শকের মন জয় করে নিয়েছেন। প্রথম দিনের খেলার শেষে রহিম ৯৯* রানে অপরাজিত ছিলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকালে খুব সতর্কভাবে শুরু করেন এবং তারপর জর্ডন নিলের বল স্কয়ার লেগে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের আরেকটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। রহিম ২১৪ বলে ১০৬ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ৫টি চার। এই ইনিংস ছিল তাঁর ক্লাস, ধৈর্য ও অভিজ্ঞতার নিখুঁত উদাহরণ।

১০০তম টেস্টে সেঞ্চুরি জড়ানো ১১তম খেলোয়াড়
মুশফিকুর রহিম নিজের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি জড়ানো বিশ্বের ১১তম ব্যাটসম্যান হয়ে গেলেন। এর আগে কলিন কাউড্রে, জাভেদ মিয়াঁদাদ, ইনজামাম-উল-হক, রিকি পন্টিং, জো রুট, ডেভিড ওয়ার্নারসহ একাধিক দিগগজ এই কীর্তি গড়েছিলেন। রিকি পন্টিং হলেন একমাত্র ব্যাটসম্যান যিনি নিজের ১০০তম টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। এই বিশেষ তালিকায় এখন বাংলাদেশেরও একটি নাম যুক্ত হলো।

দিলচস্প বিষয় এই যে এই এলিট ক্লাবে এখনো কোনো ভারতীয় ব্যাটসম্যান নেই। সচিন তেণ্দুলকর, বিরাট কোহলি, রাহুল দ্রাবিড় ও সুনীল গাভাস্কারের মতো মহান খেলোয়াড়রাও নিজেদের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি জড়াতে পারেননি। ফলে রহিমের এই সাফল্য আরও বিশেষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনো আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে ডঙ্কা
মুশফিকুর রহিম শুধু টেস্টেই নয়, বরং তিনো আন্তর্জাতিক ফরম্যাট—টেস্ট, ওয়ানডে ও টি২০—এ ১০০ ম্যাচ খেলা বিশ্বের পঞ্চম ক্রিকেটারও হয়ে গেছেন। তাঁর আগে শুধুমাত্র রস টেলর, ডেভিড ওয়ার্নার, টিম সাউদি ও বিরাট কোহলি এই মুকামে পৌঁছেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মুখ করে তুলেছে। ২০০৫ সালে টেস্ট অভিষেক করা রহিম গত দুই দশক ধরে বাংলাদেশ দলের মেরুদণ্ড হয়ে আছেন। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর গড় ৩৮.৪৩, ৬৪৫৭ রান, ১৩টি সেঞ্চুরি এবং ২৭টি অর্ধশতক তাঁর দারুণ ক্যারিয়ারের প্রমাণ। তাঁর ১০০তম টেস্টের সেঞ্চুরি শুধু তাঁর নিজের ক্যারিয়ারের সোনালি অধ্যায় নয়, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের জন্যও গর্বের মুহূর্ত।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button