
মাহমুদুল হাসান জয় আয়ারল্যান্ড বোলারদের পানি খাইয়ে দিলেন, ১৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, গড়লেন একাধিক রেকর্ড
সিলেট টেস্টে মাহমুদুল হাসান জয় ১৭১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে আয়ারল্যান্ড বোলারদের চাপে ফেলেছেন। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ১৬৯ রানের জুটি ও তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ইনিংস বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায় এবং একাধিক রেকর্ডও গড়েন জয়।
সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের তরুণ ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় এমন ক্লাসিক ব্যাটিং দেখালেন যে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা পুরোপুরি ব্যাকফুটে চলে গেল। ম্যাচের শুরুতে আয়ারল্যান্ড ২৮৬ রান তুললেও জয় ও সাদমান ইসলাম মিলে বাংলাদেশের ইনিংসকে এমন মজবুত ভিত্তি দিলেন যে ম্যাচের দিকটাই বদলে গেল। প্রথম উইকেটে ১৬৯ রানের জুটি গড়ে দুই ওপেনার ম্যাচের ভিত তৈরি করেন, আর সেই জুটিতে সবচেয়ে বেশি আলো কাড়লেন জয়। নিখুঁত টেকনিক, ধৈর্য আর শট নির্বাচন—সব মিলিয়ে জয়ের এই ইনিংস ছিল একেবারে টেস্ট ব্যাটিংয়ের নিখুঁত উদাহরণ।
টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি, ঘরের মাঠে প্রথম
এই ইনিংসে জয় তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পূরণ করেন, তবে বাংলাদেশের মাটিতে এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি—যা তাকে আরও আলাদা মর্যাদা দিল। ২৮৬ বল খেলে ১৪ চার ও ৪ ছক্কায় সাজানো ১৭১ রানের এই ইনিংস এতটাই দাপুটে ছিল যে মনে হচ্ছিল তিনি প্রথমবারের মতো দ্বিশতকও পূরণ করবেন। কিন্তু একটি ভুল শট তার ইনিংসের ইতি টেনে দেয়। তারপরও এই ১৭১ রানের ইনিংস বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার প্রথম বড় ইনিংস হিসেবেও তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সাদমান ইসলামেরও শক্ত ব্যাটিং
জয়ের দুর্দান্ত ইনিংসের পাশাপাশি অন্য ওপেনার সাদমান ইসলামও ৮০ রানের দৃঢ় ইনিংস খেলেন। দু’জনের মধ্যে এমন বোঝাপড়া ছিল যে আয়ারল্যান্ডের কোনো বোলারই চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। পেস হোক বা স্পিন—বাংলাদেশের দুই ওপেনার সব ধরনের বোলিংকে সামলেছেন দারুণ দক্ষতায়। তাদের এই বড় জুটি বোলারদের সম্পূর্ণ নিষ্প্রভ করে দেয় এবং বাংলাদেশের পক্ষে সহজেই ৫০ রানের বেশি লিড এনে দেয়।
জয়ের ক্যারিয়ার ও নতুন মাইলফলক
২০২১ সালে টেস্ট অভিষেক করা জয় খুব অল্প সময়েই নিজের ব্যাটিং দক্ষতা দিয়ে নজর কেড়েছেন। এখন পর্যন্ত ১৯ টেস্টের ৩৫ ইনিংসে তিনি করেছেন ৯৪৬ রান, রয়েছে ২টি সেঞ্চুরি ও ৪টি হাফ-সেঞ্চুরি। তবে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার ১৭১ রানের ইনিংস এখন তার ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ স্কোর। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া আগের রেকর্ড ভেঙে তিনি নিজের ব্যাটিং সম্ভাবনার নতুন উচ্চতা স্পর্শ করলেন। এই ইনিংস প্রমাণ করে দিয়েছে—বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ওপেনিং তার হাতেই নিরাপদ।





