
‘আমার কাছে এলো, হাত ধরল, পিরিয়ড কবে শেষ হবে জিজ্ঞেস করল’, ক্রিকেটারের অভিযোগে তোলপাড়, এবার BCB-র রিঅ্যাকশন!
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে নতুন বিতর্ক! জাহানারা আলমের বিস্ফোরক অভিযোগে সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের দাবি। BCB তদন্তের ইঙ্গিত দিলেও, মঞ্জুরুল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুরো ক্রিকেট দুনিয়া এখন এই কেলেঙ্কারিতে স্তব্ধ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট এই মুহূর্তে বড় সংকটে। নারী দল বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর পেসার জাহানারা আলম একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করে চলেছেন। প্রথমে তিনি অধিনায়ক নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে জুনিয়র খেলোয়াড়দের চড়–থাপ্পড় মারার অভিযোগ তুলেছিলেন। এবার আরও ভয়াবহ দাবি—তাঁর সঙ্গে যৌন নির্যাতন ও অশোভন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। জাহানারার বয়ানে উঠে এসেছে BCB-র ভেতরে বহু বছর ধরে চলে আসা গোপন কেলেঙ্কারির চিত্র।
“পিরিয়ড কবে শেষ হবে?”
জাহানারার সবচেয়ে তীব্র অভিযোগ সাবেক নির্বাচক ও টিম ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, ২০২২ বিশ্বকাপের সময় মঞ্জুরুল তাঁর কাছে এসে হাত ধরেন, কাঁধে হাত রাখেন এবং অত্যন্ত ব্যক্তিগত প্রশ্ন করেন—“পিরিয়ড কয়দিন হলো? শেষ হলে আমাকে জানিয়ো।” জাহানারা বলেন, এটি isolated ঘটনা নয়; তিনি অভিযোগ করেন যে মঞ্জুরুল মেয়েদের টেনে বুকে জড়িয়ে ধরতেন, অস্বস্তিকরভাবে কাছে এসে কথা বলতেন, এবং মাঠ–বাইরে তাঁর আচরণে খেলোয়াড়রা আতঙ্কে থাকতেন।
জাহানারার বিস্ফোরক বয়ান
জাহানারার দাবি, প্রয়াত কর্মকর্তা তৌহিদ মাহমুদের তরফ থেকেও সমন্বয়কারী সারফরাজ বাবুর মাধ্যমে তাঁকে অশালীন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। জাহানারা বলেন, তিনি যখন এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যান, তখন ব্যবস্থাপনার আচরণ বদলে যায়—তাঁকে অপমান করা শুরু হয়, খারাপ আচরণ করা হয় এবং তাঁর ক্যারিয়ার আটকে দেওয়ার চেষ্টা চলে। তিনি আরও জানান, বহুবার BCB কর্মকর্তাদের জানিয়েও তিনি শুধু “অস্থায়ী সমাধান” পেয়েছেন। তাঁর মতে—“আমি এসব বলছি যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মেয়ে এই নির্যাতনের শিকার না হয়।”
BCB-র প্রতিক্রিয়া
জাহানারার অভিযোগ সামনে আসতেই নড়ে বসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। BCB-র ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছেন—“অভিযোগ খুবই গুরুতর, আমরা বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। প্রয়োজনে তদন্ত হবে।” অন্যদিকে মঞ্জুরুল ইসলাম অভিযোগগুলোকে “মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও লজ্জাজনক” বলে দাবি করেন এবং চ্যালেঞ্জ করেন—“যদি প্রমাণ থাকে, সামনে আনুক।” এখন পুরো ক্রিকেট দুনিয়ার নজর—এই বিস্ফোরক কেলেঙ্কারির সত্যিই তদন্ত হবে, নাকি আগের মতো চুপচাপ চাপা পড়ে যাবে।





